সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে সরকারি তথ্য-ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এ কথা জানান।
জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে এই উত্তর দেওয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে।
পিআইডির কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’র দিকনির্দেশনায় আঞ্চলিক অফিসগুলো সার্বক্ষণিক অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারি করছে। অপতথ্য শনাক্ত হওয়া মাত্রই সরকারি ‘ফ্যাক্টচেক’ বার্তা গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি পিআইবি গত দুই বছরে ৬৪ জেলায় ১৪১টি কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
এ ছাড়া গণমাধ্যমের অনুকরণে অপতথ্য ছড়ানো ১৬টি ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে কাজ করছে।


