কারও নাম গুগলে সার্চ করলে সবার আগে যা দেখা যায়, তা-ই অনেক সময় সেই ব্যক্তি সম্পর্কে প্রথম ধারণা তৈরি করে দেয়।
এলোমেলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল বা পুরোনো কোনো ওয়েবসাইটের তথ্যের বদলে নিজের পরিচয় গোছানোভাবে তুলে ধরার একটি উপায় হলো গুগলের ‘পিপল কার্ড’ (People Card) সুবিধা, যা ‘Add Me to Search’ নামেও পরিচিত।
পিপল কার্ড আসলে কী কাজে লাগে
সহজ ভাষায় বললে, পিপল কার্ড হলো একধরনের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা সরাসরি গুগলের সার্চ ফলাফলে দেখা যায়। কেউ যদি আপনার নাম লিখে সার্চ করে, তাহলে আপনার তৈরি করা এই কার্ডটি একদম শুরুর দিকেই ভেসে উঠতে পারে।
কার্ডে সাধারণত থাকে- নাম, ছবি, পেশা, শহর বা এলাকার নাম, ছোট্ট একটি পরিচিতি, নিজের ওয়েবসাইট এবং প্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া লিংক।
মজার বিষয় হলো, এই সুযোগ কেবল ব্যক্তিমানুষের জন্য- কোনো কোম্পানি বা ব্র্যান্ড এই কার্ড খুলতে পারে না। মূলত ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট নির্মাতা, লেখক, শিল্পী কিংবা যেকোনো পেশাজীবী, যাদের নাম গুগলে সার্চ করলে খুব বেশি কিছু আসে না- তাদের কথা মাথায় রেখেই ২০২০ সালে ভারতে প্রথম এই ফিচার চালু হয়েছিল।
২০২৬ সালে এসে এই সুবিধার হালচাল
এখন প্রশ্ন হলো, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই ফিচারটি আসলেই কতটা কার্যকর। সত্যি বলতে, শুরুর তুলনায় এর প্রাপ্যতা এখন অনেকটাই সংকুচিত। একসময় বেশ কয়েকটি দেশের ব্যবহারকারী সহজেই এই কার্ড খুলতে পারতেন, কিন্তু গুগল ধাপে ধাপে সেই সুযোগ কমিয়ে এনেছে।
এই মুহূর্তে মূলত ভারত, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্যই এটি টিকে আছে- আর সেখানেও নতুন কার্ড খোলা সবসময় নিশ্চিতভাবে কাজ করছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তাই কারও এলাকায় বা অ্যাকাউন্টে এই ফিচার এখনো চালু আছে কি না, সেটা আগেভাগে যাচাই করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ধাপে ধাপে কীভাবে তৈরি করবেন
মোবাইল ফোন থেকেই এই কাজটি করা সবচেয়ে সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-
প্রথম ধাপ: ফোনে গুগল অ্যাপ বা ক্রোম ব্রাউজার খুলে নিজের গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: সার্চ বারে টাইপ করতে হবে ‘add me to search’।
তৃতীয় ধাপ: যদি ফিচারটি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা অঞ্চলে সক্রিয় থাকে, তাহলে ফলাফলের ওপরে একটি বাটন চোখে পড়বে, যেখানে লেখা থাকবে কার্ড তৈরির আমন্ত্রণ। এখানে ট্যাপ করলেই মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
চতুর্থ ধাপ: এরপর একটি ফর্ম আসবে, যেখানে নাম, পেশা, বসবাসের এলাকা, নিজের সম্পর্কে ছোট বিবরণ এবং লিংক যোগ করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর যাচাইয়েরও প্রয়োজন পড়তে পারে।
পঞ্চম ধাপ: সব তথ্য দেওয়ার পর একবার প্রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো, যাতে কোনো ভুল না থাকে। এরপর সেভ করলেই কাজ শেষ। সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কার্ডটি সার্চে দেখা শুরু করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এতে আরও একটু সময় লাগতে পারে।
যদি কোনো আমন্ত্রণ বাটনই চোখে না পড়ে, তার মানে সেই মুহূর্তে ওই অঞ্চল বা অ্যাকাউন্টের জন্য ফিচারটি বন্ধ আছে- এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কৌশল প্রয়োগ করে জোর করে চালু করার সুযোগ নেই।
কাদের জন্য এই কার্ড উপযুক্ত নয়
একটা বিষয় খেয়াল রাখা দরকার- যাদের নামে ইতিমধ্যেই গুগলের নলেজ প্যানেল তৈরি হয়ে গেছে, অর্থাৎ যারা এমনিতেই যথেষ্ট পরিচিত, তাদের জন্য নতুন করে পিপল কার্ড খোলার সুযোগ নেই।
এই ফিচার মূলত তাদের জন্যই ভাবা হয়েছিল, যাদের অনলাইন উপস্থিতি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
কার্ডে কী লিখবেন, কী লিখবেন না
বিবরণ লেখার সময় সহজ ও সত্যিকারের ভাষায় লেখাই ভালো- কৃত্রিমভাবে অনেক শব্দ গুঁজে দেওয়ার দরকার নেই। বরং নিজের পেশা ও দক্ষতার জায়গাগুলো স্বাভাবিক ভাষায় তুলে ধরাই যথেষ্ট।
তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা জরুরি। বাসার সম্পূর্ণ ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা বা কোনো পরিচয়পত্রের তথ্য কখনোই এই কার্ডে দেওয়া উচিত নয়।
এর বদলে নিজের ওয়েবসাইট, লিংকডইন বা ইউটিউব চ্যানেলের মতো পাবলিক প্রোফেশনাল লিংক ব্যবহার করাই নিরাপদ। মাঝেমধ্যে নিজের দেওয়া তথ্য একবার করে দেখে নেওয়াও ভালো অভ্যাস।
যদি সুবিধাটি না পাওয়া যায়, তাহলে উপায়
সবার অঞ্চলে যেহেতু এই ফিচার এখন সক্রিয় নেই, তাই বিকল্প পথও ভেবে রাখা দরকার। নিজের নামে একটি সাধারণ ওয়েবসাইট বা ব্লগ খুলে রাখা, লিংকডইন প্রোফাইল নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই নাম ও তথ্য ব্যবহার করা- এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে গুগল সার্চে নিজের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচয় গড়ে তোলে।
শেষ কথা
পিপল কার্ড থাকুক বা না থাকুক, আসল কাজটা হলো ধারাবাহিকতা। একই নাম, একই তথ্য, বিশ্বস্ত কিছু প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত উপস্থিতি- এগুলোই দীর্ঘমেয়াদে গুগলে নিজের পরিচয়কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরে। পিপল কার্ড এক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুবিধা মাত্র, একমাত্র সমাধান নয়।


