...|...|...

সারাদেশ

গাঁজাসহ আটকের কয়েক ঘণ্টা পরই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:১৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:২৯
Shares
গাঁজাসহ আটকের কয়েক ঘণ্টা পরই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮)। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মো. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত (২৮)। তিনি মধুখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত ইসকেন্দার হায়দারের ছেলে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) রাতে প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্তকে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্ক্যানের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রান্তকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ইমতিয়াজ আহমেদ প্রান্তের বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় পূর্বেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।