...|...|...

সংবাদ

গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা, মরদেহে আগুন

গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা, মরদেহে আগুন

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৫:২০ | আপডেট: ৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:৫৯
Shares
গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা, মরদেহে আগুন

 

গাজীপুরে গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় এবং তা অন্যকে বলে দেওয়ার কথা বলায় এক মাদরাসা ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে এক যুবক।  এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত শিশুর নাম মাহবুব আলম রনি (১৩)।  অপরদিকে গ্রেফতার যুবকের নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)।  তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার মো. আব্দুল বারেকের ছেলে।  সাব্বির গাজীপুর সদরের ভবানীপুর ফকিরানি গার্মেন্ট সংলগ্ন হাজি ইকবাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, নিহত রনি ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল।  গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবি নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় সে।  পরদিন সকালে ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে তার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  মরদেহের কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত অংশ আগুনে পোড়া ছিল।  পরে রনির দাদা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, পরে পিবিআই মামলাটির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা থেকে  বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা সাথে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাব্বির এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ জানায়, ঘটনার দিন রাত অনুমান ৯টার ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের জন্য জঙ্গলের ভিতরে যায়।  মাঝে মাঝেই ওই জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করতেন তিনি।  এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে ছাব্বিরকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে।  এতে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে।  কিন্তু রনি পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে, ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে রনির গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে।  এক পর্যায়ে ছাব্বির শিশু রনির ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।