...|...|...

লাইফস্টাইল

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে কোন পানীয় বেছে নিচ্ছেন?

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২১
Shares
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে কোন পানীয় বেছে নিচ্ছেন?

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। ছবি: সৌজন্য

তীব্র গরমে ঘাম বেশি হওয়ার কারণে শরীর থেকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট প্রতিনিয়ত বের হয়ে যায়। ফলে তরল গ্রহণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত তরলের অভাবে পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত ক্লান্তিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গরমের সময়ে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় পর পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস করা জরুরি। 

তবে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সব ধরনের পানীয় সমান উপকারী নয়। পানীয় নির্বাচনে সঠিক পুষ্টিগত ধারণা বজায় রাখা উচিত। গরমে সবচেয়ে সহজ ও প্রয়োজনীয় পানীয় হলো নিরাপদ খাবার পানি। দৈনন্দিন পানীয়ের প্রধান অংশ পানি থেকেই আসে। তবে একসঙ্গে বেশি পরিমানে পানি পান করার পরিবর্তে সারাদিনে অল্প অল্প করে পান করা ভালো।

গরমে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার প্রয়োজন হলে , বেশি ঘাম হওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে তরলের প্রয়োজন শারীরিক অবস্থাভেদে আরও বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে ডাবের পানি গরমে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ডাবের পানিতে বিদ্যমান পটাসিয়াম ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সে সহায়তা করে থাকে। একইভাবে পাতলা স্যুপ বা ঘরে তৈরি হালকা তরল খাবার যেমন- ডাল, শরবত খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে ডাবের পানিকে পানির বিকল্প বা সব ধরনের পানিশূন্যতার চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ব্যক্তির অন্যান্য শারীরিক সমস্যা অনুযায়ী বিবেচনা করা উচিত।

লেবু পানিও গরমে সতেজ একটি পানীয় হতে পারে। তবে শরবতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ লবণ যোগ করা যেতে পারে, বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে। অতিরিক্ত চিনি দিয়ে লেবুর শরবত তৈরি করলে সেটি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের পরিবর্তে বরং আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে যেতে পারে।

গরমে ওআরএস নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। প্রতিদিনের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নিয়মিত ওআরএস প্রয়োজন নেই। এটি মূলত ডায়রিয়া, বমি বা উল্লেখযোগ্য পানিশূন্যতার মতো বিশেষ অবস্থায় শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত ওআরএস পান না করে পরিস্থিতি ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত, এনার্জি ড্রিংক ও অতিরিক্ত মিষ্টি জুসকে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রধান পানীয় হিসেবে অনেকে বেছে নিয়ে থাকেন। এগুলোতে মেশানো বাড়তি চিনিতে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিসট্যান্স, মেটাবলিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি, হরমোনাল ইমব্যালেন্স এবং ইনফার্টিলিটির মত সমস্যাকে ট্রিগার করে থাকে। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গরমে পরিমিত রাখা ভালো। বিশেষ করে শিশু, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতার পেশেন্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পানীয় নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রয়োজন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।

পুষ্টিবিদ হিসেবে পরামর্শ থাকবে গরমে পানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু ‘ঠান্ডা লাগছে কি না’ সেটি বিবেচনা না করে শরীরের প্রয়োজন, পানিশূন্যতার ঝুঁকি, পানীয়তে সংযুক্ত চিনি ও লবণের পরিমাণ এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে এরপর আপনার জন্য গ্রহণীয় ও স্বাস্থ্যকর পানীয়টি বেছে নেয়া উচিত।

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা

হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাভার এবং

এভার ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার, ওয়ারী