...|...|...

সারাদেশ

খামারিরা ঘুরে দাঁড়ালে শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:১৫
Shares
খামারিরা ঘুরে দাঁড়ালে শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নের সাথে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সরাসরি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, খামারিরা উন্নত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইসাথে উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য খামারিদের উৎপাদনমুখী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একজন খামারি শুধু নিজের পরিবারের কর্মসংস্থান করেন না, তার সাথে আরও অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। খামারিদের টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন খরচ, ঋণ সুবিধা, পশুচিকিৎসা ও পণ্য বাজারজাতকরণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের সাথে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিম্নমানের মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে ‘ফ্যাসিবাদীরা’ পলায়ন করেছে এবং তারা বিদেশে বসে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। তার দাবি, দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাদককে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দিন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।

কর্মশালায় নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন, প্রাণিজ পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রাণিজ পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি খামারিদের মধ্যে গবাদিপশু বিতরণ করেন।

গবাদিপশু বিতরণের সময় খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ, পশুর যথাযথ পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রীর সফরে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।