সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম অগ্ন্যাশয়ের বা প্যানক্রিয়েটিক ক্যানসার। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসায় মার্কিন রোগীদের জন্য আরও কার্যকর থেরাপি নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তারা একটি যুগান্তকারী নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে।
এফডিএ কর্মকর্তারা প্রথম ধরনের এই ওষুধটিকে খুব দ্রুত অনুমোদন দিয়েছেন, যার নাম ‘ড্যারাওনরাসিব’। এটি এমন একটি মিউটেটেড বা পরিবর্তিত প্রোটিনকে বাধাগ্রস্ত করে যা প্যানক্রিয়েটিক ক্যানসারের ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে টিউমারের বৃদ্ধিতে জ্বালানি জোগায়। ক্যানসার চিকিৎসায় এই পদ্ধতিটি নিয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারকরা বিগত কয়েক দশক ধরে কাজ করলেও সফল হতে পারেননি।
ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘রেভল্যুশন মেডিসিনস’ এই ওষুধকে ‘র্যাসনকিউ’ ব্র্যান্ড নামে বিক্রি করবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এক মাসের ওষুধের সরবরাহের দাম পড়বে প্রায় ৩৯,৮০০ মার্কিন ডলার।
অ্যাসোসিয়েটস প্রেসের বরাতে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগী এই ওষুধটি সেবন করেছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় তাদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। কোম্পানিটির অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় এমন ৫০০ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের মেটাস্ট্যাটিক বা ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার পূর্ববর্তী চিকিৎসায় আর সাড়া দিচ্ছিল না।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন চিকিৎসা পাওয়া রোগীরা মধ্যম বা মিডিয়ান হিসেবে ১৩.২ মাস বেঁচে ছিলেন, যেখানে কেমোথেরাপি গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই সময়কাল ছিল মাত্র ৬.৭ মাস। ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ত্বকে ফুসকুড়ি, মুখে ঘা, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পরিপাকজনিত সমস্যা।
ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ডা. অ্যান্ড্রু কোভেলার বলেন, এটি আমার জানা অন্যতম সর্বাধিক প্রত্যাশিত অনুমোদন।
তিনি আরও বলেন, এই ওষুধটি কোনো নিরাময় নয়, তবে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
প্যানক্রিয়েটিক ক্যানসার অন্যতম মারাত্মক একটি রোগ, যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আগে এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৭,০০০ নতুন রোগী শনাক্ত হবে এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫২,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। রোগটিতে পাঁচ বছরের সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩%।


