...|...|...

অন্যান্য

কোন সঞ্চয়পত্রে বেশি লাভ, কার জন্য কোনটি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০৭
Shares
কোন সঞ্চয়পত্রে বেশি লাভ, কার জন্য কোনটি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম খুঁজছেন। শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কিংবা ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে এখনো শীর্ষে রয়েছে সরকারি সঞ্চয়পত্র। তবে বিনিয়োগের আগে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন—কার জন্য কোন সঞ্চয়পত্রটি সবচেয়ে উপযোগী এবং কোথায় এটি কিনলে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে?

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রধানত চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বয়স, পেশা ও লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে এই স্কিমগুলো সাজানো হয়েছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র: অবসরজীবীদের সর্বোচ্চ ভরসা

সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্রটি বিশেষভাবে তৈরি। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে এই স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফা পাওয়া যায়, যা মেয়াদ শেষে প্রায় ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। ৫ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে প্রতি তিন মাস পর পর মুনাফা তোলার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্র: নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার

কেবল ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্রটি সংরক্ষিত। সংসারে নিয়মিত খরচ চালানো বা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ৫ বছর মেয়াদি এই পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রতি মাসেই মুনাফা তোলার সুবিধা রয়েছে। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৭.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১.৯৩ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যায়।

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: সবার জন্য উন্মুক্ত

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এই সাধারণ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন। এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বড় কোনো সঞ্চয় বা লক্ষ্য পূরণের জন্য উপযোগী। কারণ এতে প্রতি মাসে মুনাফা না দিয়ে মেয়াদ শেষে চক্রবৃদ্ধি হারে এককালীন বড় অঙ্কের লভ্যাংশ বা মুনাফা দেওয়া হয়। ৫ বছর পূর্ণ হলে এই স্কিমে প্রায় ১১.৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: নিয়মিত আয়ের উৎস

যারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রতি তিন মাস পর পর নিশ্চিত আয় চান, তাদের জন্য এই ৩ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রটি উপযুক্ত। এটিও যেকোনো সাধারণ নাগরিক কিনতে পারেন। মেয়াদ শেষে এতে বিনিয়োগের পরিমাণ ভেদে সর্বোচ্চ ১১.৮২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়।

কোথায় বিনিয়োগ করলে মিলবে বেশি সুবিধা?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো এবং পোস্ট অফিস বা ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যায়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সবখানেই মুনাফার হার ও ট্যাক্স কাটার নিয়ম একই। তবে গ্রাহকসেবা ও দ্রুত প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরোগুলো বেশ এগিয়ে রয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কারণে এখন ব্যাংকগুলোতে ঝামেলা ও লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি অনেকটাই কম। অন্যদিকে, ডাকঘরে এখনো কিছু ক্ষেত্রে সনাতন বা আংশিক ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে গ্রাহকদের কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে।

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে অবশ্যই ই-টিন (e-TIN) এবং সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন জমার রসিদ প্রয়োজন হবে। রিটার্ন স্লিপ জমা দিলে মুনাফার ওপর উৎসে কর ১৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ১০ শতাংশ কাটা হয়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি একটি বড় সুবিধা। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক স্কিম এবং সুবিধাজনক মাধ্যম বেছে নিয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।