চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোমা দত্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও প্রায় ৪৭ লাখ টাকা বেতন-ভাতা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে থাকা ড. সোমা দত্তের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অবস্থান করেন তিনি।
ড. সোমা দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটি তিনটি অভিযোগেরই সত্যতা পায়। এর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান, শিক্ষা ছুটি শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ। তদন্তে উঠে আসে, এভাবে তিনি প্রায় ৪৭ লাখ টাকা বেতন-ভাতা নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া জানান, তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক সোমা দত্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে অবস্থানকালে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা তাকে ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে জানান।
তবে ৫৬৮তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে এখনই তার চাকরিচ্যুতি চূড়ান্ত বা স্থায়ী হয়েছে কি না এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থানকালে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে ওই শিক্ষকের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, সে বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ড. সোমা দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত পর্যায়ে সত্যতা পেয়েছে। এখন পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয় এবং প্রায় ৪৭ লাখ টাকা কীভাবে আদায় করা হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


