...|...|...

সারাদেশ

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ফেরাতে ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩৩ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৫২
Shares
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ফেরাতে ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: টাইমস টুডে

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে কমে যাওয়া দুই ইউনিটের প্রায় ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পূর্ণ ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৫৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ, ২০০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সরকারি তহবিল এবং ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA) থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট ১৯৮৮ সালে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যায় বর্তমানে ইউনিট দুটির প্রতিটিতে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ১০০ মেগাওয়াটের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, সাধারণত একটি ইউনিটের প্রায় ১০ বছর পরপর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আর্থিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বড় ধরনের সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ৪ নম্বর ইউনিটের সংস্কার করা হয় ২০১০ সালের জুনে এবং ৫ নম্বর ইউনিটের সংস্কার করা হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে।

সাত বছর ধরে আটকে ছিল সংস্কার উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০১৮ সালে। তবে ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পটি আটকে ছিল। এ সময়ে তিনবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও বিভিন্ন কারণে সেগুলো বাতিল হয়ে যায়।

ইউনিট দুটি তোশিবা প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণে তোশিবার প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সক্ষম হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে স্থানীয় ঠিকাদারদের আপত্তিসহ বিভিন্ন জটিলতায় দরপত্র প্রক্রিয়াও বাতিল হয়ে যায়। ফলে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াই জরুরি ওভারহল ও অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে ইউনিট দুটিকে সচল রাখতে হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ইউনিট দুটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংস্কার ও পরিবর্তন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রোটর রিম সাপোর্ট, স্টেটর কয়েল, রোটর পোল, ইনসুলেশন, টারবাইনের রানার, শ্যাফট সিল ও বিয়ারিং। পাশাপাশি গভর্নর, অটোমেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেম এবং অন্যান্য অক্সিলিয়ারি সিস্টেমও আধুনিকায়ন করা হবে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের পুনর্বাসনের জন্য সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে ইউনিট দুটির মোট ১০০ মেগাওয়াট পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রটির বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি কমবে এবং জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, প্রচলিত অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত কম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়সা। একইসাথে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থায়িত্বও তুলনামূলক বেশি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কমে যাওয়া উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কেন্দ্রটির যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।