খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, আপনারা সবাই জানেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেকটা মানুষকে একইভাবে দেখেন। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কোনো বিবেচনা করা হয় না। একটাই পরিচয় আমাদের, আমরা বাংলাদেশি। এটা আমাদের বড় পরিচয় এবং এই পরিচয় নিয়েই আমরা থাকব সবাই।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম বলেন, এই জন্মাষ্টমীর দিনে সবার কাজ হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি অর্জন করা। আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না। আমরা সবাই একে অপরের পাশে থাকব। এতে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে সবাই একসঙ্গে থাকব, এই প্রতিজ্ঞা আজ আমাদের করতে হবে। আমরা অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে সৌন্দর্য, সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ তৈরি করব। এটাই আমাদের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মূল প্রতিজ্ঞা।
তিনি বলেন, এই যে আমাদের সম্প্রীতি, সৌহার্দপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের মানচিত্র, এটা আমাদের সবাইকে ধরে রাখতে হবে। এতে আমাদের শক্তি অর্জন হচ্ছে। এটা যেন আমরা সারাজীবন ধরে রাখতে পারি।
নিজ জেলা মানিকগঞ্জের প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একে অপরের বন্ধু হয়ে, একে অপরের ভাই হয়ে, একে অপরের বিপদে সব সময় থাকব। মানিকগঞ্জ জেলা বারবার প্রমাণ করে দেবে, মানিকগঞ্জ একমাত্র জেলা যেখানে কোনো বিভেদ নেই। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানিকগঞ্জ জেলা। এখানে একটাই পরিচয়, আমরা মানিকগঞ্জবাসী। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমর্থক। এটাই আমাদের বড় পরিচয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সুনীল কুমার, কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মন্ত্রী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


