চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলার সবকটি থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় পৃথক পৃথক অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং সন্দেহভাজন ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার সবকটি থানা এলাকায় এ অভিযান চালায় পুলিশ।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল ও পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্যে, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশে এবং চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় চাঁদপুর জেলার সকল থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জেলার ৮টি থানার পুলিশ একযোগে মাঠে নামে। চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সবকটি থানা এলাকার যেসব স্থানে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।
অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর থানায় ৩৫ জন, মতলব উত্তরে ৫২ জন, দক্ষিণে ৩৬ জন, হাইমচরে ৪৮ জন, ফরিদগঞ্জে ৪১ জন, হাজীগঞ্জে ৩৭ জন, কচুয়ায় ৬২ জন এবং শাহরাস্তি থানায় ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযানে আরও ১৪ জনকে আটক করে।
আটক কিশোরদের অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই শেষে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিরা নূর সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়, তাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আটককৃতদের মাদক সংশ্লিষ্ট বা অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় বিভিন্ন থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান। কিশোর গ্যাং, মাদক ও অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।



