কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে চার জেলায় মোট ১ হাজার ৪৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৪১৫, চাঁদপুরে ৩৭০, লক্ষ্মীপুরে ২৪৪ এবং চট্টগ্রামে ৪৪৫ জন রয়েছেন।
আটকদের মধ্যে বেশিরভাগকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লায় আটক ৪১৫
কুমিল্লায় তৃতীয় দফায় কিশোর অপরাধবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর এ অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতীতের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় তিন দিনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮১ জনকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ৫৯১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।
চাঁদপুরে আটক ৩৭০
চাঁদপুরে জেলার আটটি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চাঁদপুর সদরে ৩৫, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।
পরে ৩৫৫ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরে আটক ২৪৪
লক্ষ্মীপুরে জেলার ছয়টি থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ সুপার ও পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেন।
অভিযানে সদর থানায় ৪২, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১, রায়পুর থানায় ৪৪, রামগঞ্জ থানায় ৩৭, রামগতি থানায় ৪৪ এবং কমলনগর থানায় ৫৬ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামে আটক ৪৪৫
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানার এলাকায়ও বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ২৯৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না এসব বিষয়ে খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি করতে হবে। পাশাপাশি তাদের মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।





