ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি আরব ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। হুথিদের সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার একদিন পর এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুথি-সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি স্থানে সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি আরব এখন পর্যন্ত হুথিদের এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। হামলায় আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হুথিদের অব্যাহত হামলার গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবেই সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক বছর পর আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে কমে আসা সৌদি-হুথি উত্তেজনা আবারও বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


