...|...|...

জাতীয়

ইশরাকের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আজই প্রজ্ঞাপন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩১ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:০৬
Shares
ইশরাকের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আজই প্রজ্ঞাপন

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র। এ বিষয়ে সোমবারই (১৯ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক একটি মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় ওই অভিযানে তার অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার পরই তার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানান, তার কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিবেচনা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইশরাক।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তার পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হিসেবে গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে তার অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশগ্রহণের ভূমিকা ও এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিক বিবরণ বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা তার নেই। বরং সরকারি দায়িত্বের বাইরে থেকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার কার্যক্রমের কথা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্যেও উঠে এসেছে।

তবে পদত্যাগের পর মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে এবং এ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কার্যকর হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদটি শূন্য হবে। এর ফলে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টনেও পরিবর্তন আসবে। তবে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই; দুটি পৃথক বিষয়।

এদিকে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কার্যকর হওয়ার তারিখ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক তথ্য স্পষ্ট হতে পারে।