যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে তেহরানের পেশ করা শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী পুনর্উমুক্ত করার বিষয়ে এই অচলাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও তুঙ্গে উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার এই চিত্র দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৪১ সেন্ট বেড়ে ১০৬.৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭০ সেন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯৩.১১ ডলারে পৌঁছায়।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন পক্ষের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছিল ইরান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। অবশ্য রবিবার ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক ফোনালাপে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন আলোচনাকারীরা চলতি সপ্তাহে আরও কিছু বৈঠকে অংশ নেবেন।
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ-এর বিশ্লেষকরা এক নোটে লিখেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুথি ও ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা আঞ্চলিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এর আগে, শনিবার ভোরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও দুটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল সৌদির নেতৃত্বাধীন জোট।
রেকর্ড দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য (০.৪%) বাড়লেও ডব্লিউটিআই-এর দাম ৭.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। এ বিষয়ে এএনজেড-এর বিশ্লেষকরা জানান, পরিশোধিত তেল পণ্যগুলো এখনো একটি চাপের জায়গা হিসেবে রয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দাম মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তারা আরও জানান, মার্কিন ডিজেল রপ্তানির ওপর যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরবরাহ কমিয়ে দেবে, যার ফলে মার্কিন সরবরাহ হ্রাসের আশঙ্কায় ইউরোপীয় বাজারেও তেলের দাম প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
এদিকে কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ক্রুড অয়েল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের তেল রপ্তানি বাড়িয়ে দেওয়ায় এই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল খালাস ও পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় এই মাসে তা প্রতিদিন প্রায় ৭.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে গিয়ে ঠেকবে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে হামলার কারণে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি পূর্বের রাস তানুরা বন্দরে সরিয়ে নেওয়ার ফলেই হরমুজ রুট দিয়ে এই রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।


