রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোয় যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনার পর এবার ইউক্রেনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ দূত। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই মার্কিন দূত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং ট্র্যাম্পের জামাতা জারেড কুশনার পুতিনের সাথে পরবর্তী পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পর রবিবার কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিবিসির তথ্য মতে, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা যখন জোরদার হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই পরিকল্পনাগুলো ঠিক কী তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচকদের এটিই হতে যাচ্ছে ইউক্রেনের রাজধানীতে প্রথম সফর। ইতোমধ্যে পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন।
উইটকফ ও কুশনার যখন ক্রেমলিনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন জেলেনস্কি জানান যে তিনি একটি সারগর্ভ আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মস্কোয় এই বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এবং তা রুশ রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে পুতিনের সরকারি বাসভবনে সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
বিস্তারিত তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেলেও, উভয় পক্ষই কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে না গিয়ে মোটামুটি ইতিবাচক মন্তব্য করেছে।
পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই আলোচনাকে গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা কেবল ইউক্রেন সংকট সমাধানের মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়গুলো এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়ে বেশ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
উশাকভ আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতি নোট করা হয়েছে এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা যে প্রয়োজন, সে বিষয়েও স্বীকৃতি মিলেছে।
উল্লেখ্য, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর হওয়া সত্ত্বেও, এই সংঘাতের বেশিরভাগ সময় ধরেই রুশ স্থলবাহিনী অত্যন্ত ধীরগতিতে এগিয়েছে এবং এর জন্য তাদেরকে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে। রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের ভূখণ্ডের প্রায় এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে—যেগুলো তারা ২০২২ সালে দখল করেছিল।
কুশনার ও উইটকফ এর আগে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় তারা কীভাবে মস্কো থেকে কিয়েভে যাতায়াত করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা জোরদার হওয়ার পরই এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টর বা আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের অভাবে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে কিয়েভ তাদের হামলা মূলত রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল স্থাপনাগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত রেখেছে।


