...|...|...

জাতীয়

আসিফের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যা বললেন দুদক সচিব

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:১২ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৩
Shares
আসিফের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যা বললেন দুদক সচিব

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব সাইদুর রহমান খান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

দুদক সচিব বলেন, দুদকে কোনো অভিযোগ আসার পর প্রথমে তা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে যায়। কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়। আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য আমলযোগ্য মনে হওয়ায় কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এর আগে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার এ অভিযোগ নাকচ করে দুদক সচিব বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আসিফের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তার বক্তব্যও কমিশন পরীক্ষা করে দেখবে।

এর আগে দুদকের এক কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব সেটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্লিপ অব টাং বা বক্তব্যের অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনে অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য আমলযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অন্য তিনজন হলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুম আহমেদ।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জনের দায়িত্ব বাতিল হয়েছিল এবং তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে করা হয়।

এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল, আর পদোন্নতির আদেশ হয় ১১ মে। অথচ তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে ওই পদোন্নতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন আসিফ।

দুদক সচিব বলেন, আসিফ মাহমুদের এসব বক্তব্য কমিশন পরীক্ষা করে দেখবে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান থাকায় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কমিশন। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।