...|...|...

সারাদেশ

আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যায় ব্যবহৃত আলোচিত সেই ভ্যান উদ্ধার

মাসুদুর রহমান রুবেল, আশুলিয়া (ঢাকা)
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২১
Shares
আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যায় ব্যবহৃত আলোচিত সেই ভ্যান উদ্ধার

আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যায় ব্যবহৃত আলোচিত ভ্যান। ছবি: নিজস্ব

আশুলিয়ায় গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বহুল আলোচিত সেই পুলিশ ভ্যানের সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে রাখা ভ্যানটি একটি জমি উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় প্রকাশ্যে আসে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি উন্মোচিত হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে গত ৫ আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন তখনো জীবিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দাবি-আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি এবং তৎকালীন আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে ভ্যানটিকে অবিলম্বে 'জুলাই জাদুঘরে' সংরক্ষণ করা হোক।

অপর এক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। গাড়িটি ডাম্পিংয়ে ফেলে না রেখে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।

বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অফিসার ইনচার্জ (রিজার্ভ ফোর্স) শহিদুল বলেন, গাড়িটি তো চাইলেই এভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। এটি মামলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এটি কোথাও নিতে হলে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি এবং আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে নিহত ও আহতদের পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর বহুল আলোচিত সেই ভ্যানটির সন্ধান পাওয়ায় এলাকায় আবারও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।