২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আলিম (একাদশ) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক স্মারকপত্রে এ নির্দেশনা জানানো হয়। বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের কাছেও নির্দেশিকাটি পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২৬’ অনুসরণ করতে হবে। ওই নীতিমালার ভিত্তিতে আলিম ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আলিম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের (জিপিএ ও মোট প্রাপ্ত নম্বর) ভিত্তিতেই মেধাতালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে নির্ধারিত ওয়েবসাইট www.xiclassadmission.gov.bd-এ লগইন করে।
ভর্তির আবেদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি
অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা: আগামী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) থেকে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টা পর্যন্ত। (পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফলাফল পরিবর্তন হতে পারে, যোগ্য বিবেচিত হলে তাদেরও এই সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে)।
পুনর্নিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তনকারীদের আবেদন ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ৮টা পর্যন্ত।
পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ৮টা পর্যন্ত।
মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রথম ফল প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায়।
প্রাথমিক সিলেকশন নিশ্চয়ন: ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) রাত ৮টা পর্যন্ত। (নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চয়ন না করলে মনোনয়ন এবং আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে)।
মাদ্রাসায় চূড়ান্ত ভর্তি: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রোববার) থেকে ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত।
পাঠদান (ক্লাস) শুরু: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার)।
ভর্তির যোগ্যতা ও কোটা বিন্যাস
যেকোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত (মেধা কোটা) থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন কোটার আওতাভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
আবেদন ফি ও সেশন চার্জের বিবরণ
অনলাইনে আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীকে ২২০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। পরে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ৩৪০ টাকা দিয়ে সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি
ঢাকা মেট্রোপলিটন: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা (বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সন)।
মেট্রোপলিটন (ঢাকা ব্যতীত): সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা।
জেলা পর্যায়: সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা।
উপজেলা বা মফস্বল: সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা।
নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফি ও সেশন চার্জ
ঢাকা মেট্রোপলিটন: বাংলা ভার্সন ৭,৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সন ৮,৫০০ টাকা।
মেট্রোপলিটন (ঢাকা ব্যতীত): বাংলা ভার্সন ৫,০০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সন ৬,০০০ টাকা।
জেলা পর্যায়: বাংলা ভার্সন ৩,০০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সন ৪,০০০ টাকা। উপজেলা বা মফস্বল: বাংলা ভার্সন ২,৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সন ৩,০০০ টাকা।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ভর্তি ফি এবং সেশন চার্জের অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না। পাশাপাশি বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত অতিরিক্ত আসন বা মেয়াদের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। এই নীতিমালা অমান্য করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমপিও ভুক্তি বা স্বীকৃতি বাতিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




