...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন

আমিরাতের পর এবার ইরানি বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিল ইরাক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৪১
Shares
আমিরাতের পর এবার ইরানি বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিল ইরাক

নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার সাথে সংহতি প্রকাশ করে ইরাকও এবার ইরানি বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শিয়া মুসলমানদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমস্ত ইরানি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজাফ বিমানবন্দরের পরিচালক হুসেইন মুহান্না এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরের পরিচালক হুসেইন মুহান্না এএফপিকে জানান, নাজাফ প্রদেশের গভর্নরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নাজাফ বিমানবন্দর এবং ইরানের মধ্যকার সমস্ত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

পবিত্র বাগদাদের দক্ষিণ অবস্থিত নাজাফের এই পবিত্র নগরীটি ইরানি ফ্লাইটগুলোর জন্য একটি অন্যতম প্রধান হাব বা কেন্দ্র। মূলত ইরাকি শিয়া তীর্থযাত্রীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া এবং ইরাকের পবিত্র স্থানগুলো দর্শনে আসা ইরানি নাগরিকদের যাতায়াতের জন্য এই ফ্লাইটগুলো নিয়মিত পরিচালিত হতো। এছাড়া ইরানে অধ্যয়নরত ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের জন্যও এই ফ্লাইটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিবেশী দেশ ইরাক ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, যা মূলত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিমানবন্দরের পরিচালক জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা (জিএমটি সময়) বা শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টার পর থেকেই ইরানি বিমানগুলোর চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের মতো ইরাকও ইরানি বিমানগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এর আগে জানিয়েছিলেন যে ইরানি বিমান সংস্থাগুলো গত বুধবারের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

যদিও দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের জন্য স্থলপথগুলো খোলা রয়েছে, তবুও ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য ছিল ইরাক। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকি বিমানগুলো ইরানে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এই আকাশপথের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল।