কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনার একদিন পর কুষ্টিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের খবর পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ওসি মো. মাসুদ রানাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে কবির হোসেন মাতুব্বরকে কুষ্টিয়া মডেল থানার এবং মো. মাসুদ রানাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে তাদের বদলি বা প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশের তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এ সময় গাড়ির সামনের আসনে থাকা এমপির চাচার পা কেটে যায় এবং আমির হামজাও মাথায় আঘাত পান।
হামলার পর ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতে ইসলামীর সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার প্রতিবাদে জেলা জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে এবং পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একই সাথে হামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা, হামলা ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকা এবং পরবর্তী সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই কুষ্টিয়া মডেল ও ইবি থানার ওসিদের প্রত্যাহারের খবর বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি হিসেবে কবির হোসেন মাতুব্বর এবং ইবি থানার ওসি হিসেবে মো. মাসুদ রানা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ওই সময় কুষ্টিয়ার সাত থানায় নতুন ওসি নিয়োগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তবে দুই ওসির বদলি বা প্রত্যাহারের সাথে হামলার ঘটনাকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, হামলাকারীদের শনাক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। একই সাথে রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরও মুফতি আমির হামজাকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় একাধিক ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশি পাহারায় তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।


