...|...|...

সারাদেশ

দু’বছর পর ফিরছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:২১
Shares
দু’বছর পর ফিরছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা

দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হচ্ছে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই লোকজ মেলা। মেলা ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে দোকানপাট স্থাপন ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ঘিরে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসেন।

সাতক্ষীরার গুড় পুকুরের মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি এ অঞ্চলের শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য, সামাজিক মিলন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন, কেনাকাটা ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, ৩০০-৪০০ বছর আগে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় একটি প্রাচীন বটবৃক্ষের নিচে মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলার সূত্রপাত হয়। ঐতিহাসিক গুড় পুকুরকে কেন্দ্র করে পুকুরপাড়ে স্থানীয় মানুষের সমাগম, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা এবং বিনোদনের আয়োজন ধীরে ধীরে বড় পরিসরের মেলায় রূপ নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নাম হয়ে ওঠে গুড় পুকুরের মেলা।

এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং মানুষের মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করা, পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয়দের মতে, গুড় পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। দীর্ঘ বিরতির পর মেলা পুনরায় আয়োজন হওয়ায় ব্যবসায়ী, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) তাজুল ইসলাম জানান, আগামী ১ অক্টোবর মেলা উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবারের মেলা চলবে ২০ দিনব্যাপী।

আয়োজকদের আশা, দীর্ঘ বিরতির পর এবার গুড় পুকুরের মেলা আরও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে জমজমাট।

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যের ধারক এই মেলা আবারো প্রমাণ করবে লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনই একটি অঞ্চলের প্রাণশক্তি।