ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান। ‘রূপান্তর’ নামের এ উদ্যোগকে পরিবেশ উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদেরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমিনবাজারে নিমগাছ রোপণের মধ্য দিয়ে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দরভাবে বদলে দেওয়া সম্ভব। আমিনবাজারের উদ্যোগ তারই প্রমাণ। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এলাকাটির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের জন্য শুধু দৃষ্টিনন্দন পরিবেশই তৈরি হয়নি, বরং দূষণ কমিয়ে স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে।
বাগানের সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটি সুন্দরভাবে সাজিয়েছে। এখন এ সৌন্দর্য রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিতে হবে। সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব।
আমিনবাজারের এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে আশপাশের খালি জায়গাগুলো পরিচর্যার জন্য ভাগ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলে বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। এসব বর্জ্য জমে কোনো কোনো স্থানে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু হয়ে যায়। এতে এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলাকাটির বর্জ্যের স্তূপ ও দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন। পরে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। প্রায় তিন মাসের প্রচেষ্টায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সরিয়ে এলাকাটিকে সবুজায়নের উপযোগী করে তোলা হয়।
দীর্ঘদিনের দূষিত এলাকাকে সবুজ ও নান্দনিক পরিবেশে রূপ দেওয়ার এ উদ্যোগ এখন পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।


