...|...|...

জাতীয়

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘অসুরে’র হাত থেকে মুক্তি সম্ভব হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২৩ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৪৬
Shares
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘অসুরে’র হাত থেকে মুক্তি সম্ভব হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসুরের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়েছিল।’

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করেন এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পূজার মূল দর্শনের সাথে বাংলাদেশের মানুষের অসুরের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয়টি জড়িত। অতীতেও বাংলাদেশে অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পরাজিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ দৃঢ় কণ্ঠে বলতে পারে, বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি এ বাস্তবতাকে দেশের সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন।

পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারকে এবং একই সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, একইভাবে দলের নেতাকর্মীদেরও এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট ও অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকব।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে ভক্তবৃন্দের সবাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি, যা কিছুটা দুঃখ দিয়েছে। এখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি থাকলে এবং তাদের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপে আসতে পারলে আমি আরও খুশি হতাম। 

ভবিষ্যতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও স্বাভাবিক ও শিথিলভাবে পরিচালনা করে যাতে এ ধরনের অনুষ্ঠান ও পূজা উদযাপন করা যায়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

আগামী দিনগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে পূজা উদযাপনের জন্য অতিরিক্ত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।