মৌলভীবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৫ জনের নিয়োগ বাতিলের খবরে পরিবারসহ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভা শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌলভীবাজার জেলা থেকে চূড়ান্তভাবে ৮৫ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। চাকরি প্রায় নিশ্চিত জেনে অনেকেই অন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কারও বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, আবার কেউ ঋণ করে পরিবারের জন্য খরচ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে তাদের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।
সভাকক্ষের বাইরে কয়েকজন নারী চাকরিপ্রত্যাশীকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, "স্যার, আমরা কি অপরাধ করেছি, সব পরীক্ষায় পাশ করেও কেন আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হলো, আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিল এই চাকরিটা।
একজন পুরুষ প্রার্থী কান্না চেপে বলেন, দুই বছর ধরে দিনরাত পড়াশোনা করে চাকরিটা পেয়েছিলাম। এখন বাতিল হওয়ায় সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। বাবা-মা অসুস্থ, তাদের কী জবাব দেব।
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাদের শান্ত করেন এবং ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক দেখা হবে ।
মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেন।
এদিকে, এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রাথমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুপারিশপ্রাপ্তদের এভাবে বাতিল করা হলে মেধাবীরা হতাশ হয়ে পড়বে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভুক্তভোগী ৮৫ পরিবারের এখন একটাই দাবি-দ্রুত তাদের নিয়োগ বহাল করে তাদের স্বপ্ন ও পরিবারের হাসি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।


