...|...|...

লাইফস্টাইল

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৫৪ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৫
Shares
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ?

আঙুল ফোটানো। ছবি: এআই জেনারেটেড

কাজের ফাঁকে ক্লান্তি কাটাতে কিংবা অভ্যাসবশত অনেকেই আঙুল ফোটান। এতে ‘কট’ করে শব্দ হওয়ায় অনেকের কাছে স্বস্তিও লাগে। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা হলো, নিয়মিত আঙুল ফোটালে ভবিষ্যতে বাত বা আর্থ্রাইটিস হতে পারে। কিন্তু গবেষণা বলছে, এ ধারণার পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।

আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্টের দুই পাশের হাড় সামান্য দূরে সরে যায়। এতে জয়েন্টের ভেতরের চাপ দ্রুত পরিবর্তিত হয় এবং সাইনোভিয়াল তরলের মধ্যে গ্যাসের গহ্বর তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ার সাথেই আঙুল ফোটানোর পরিচিত ‘কট’ শব্দটির সম্পর্ক রয়েছে।

২০১১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ২১৫ জনের হাত পরীক্ষা করে আঙুল ফোটানোর অভ্যাসের সাথে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের সম্পর্ক খোঁজা হয়। এতে নিয়মিত আঙুল ফোটানো ব্যক্তিদের মধ্যে হাতের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া যায়নি। কত বছর ধরে বা কত ঘন ঘন আঙুল ফোটানো হয়েছে, তার সাথেও আর্থ্রাইটিসের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

আঙুল ফোটানো নিয়ে চিকিৎসক ডোনাল্ড আনগারের নিজের ওপর চালানো দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষাটিও বেশ আলোচিত। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে এক হাতের আঙুল নিয়মিত ফোটালেও অন্য হাতের আঙুল ফোটাননি। পরে দুই হাতের মধ্যে আর্থ্রাইটিসের কোনো পার্থক্য দেখতে পাননি। এই কাজের জন্য তিনি ২০০৯ সালে আইজি নোবেল পুরস্কার পান।

তবে আঙুল ফোটানোকে একেবারে ঝুঁকিমুক্ত বলারও সুযোগ নেই। জোর করে বা ব্যথা থাকা অবস্থায় আঙুল ফোটানো উচিত নয়। আঙুল ফোটানোর সাথে ব্যথা, ফোলা, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থাৎ, স্বাভাবিকভাবে আঙুল ফোটানোর কারণে বাত হয়—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। তাই শুধু আর্থ্রাইটিসের ভয় থেকে এই অভ্যাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।