...|...|...

অন্যান্য

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:৫৩ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:২০
Shares
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

প্রতীকী ছবি।

জয়েন্টের ব্যথা, ফোলা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের বিভিন্ন রোগের প্রভাব তুলে ধরা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য।

ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজি (ইউলার- EULAR) এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস চালু হয়। বিশ্বজুড়ে বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণে এসব রোগের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

আর্থ্রাইটিস বলতে মূলত অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের প্রদাহ এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগকে বোঝানো হয়। এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব, শক্তভাব ও স্বাভাবিক নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকার সমস্যা বেশি অনুভূত হয়।

রোগের ধরন অনুযায়ী আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ ও জটিলতায় পার্থক্য দেখা যায়। এ রোগ শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিশু-কিশোর ও তরুণদেরও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে। ফলে বয়সের কারণে জয়েন্টে ব্যথা হচ্ছে ভেবে বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়েন্টে দীর্ঘদিন ব্যথা, ফোলাভাব কিংবা শক্তভাব থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা, জয়েন্টের ক্ষতি কমানো এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

রোগের ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নির্ধারিত চিকিৎসা-পরিকল্পনা অনুসরণ করা রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন কিংবা চলমান চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের মূল বার্তা হলো, জয়েন্টের ব্যথাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা মনে করে অবহেলা না করা। সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।