আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। একই সাথে আদালত এবং এর সাথে যুক্ত ব্যক্তি ও পক্ষগুলোর সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইসিসি ও এর কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে ফলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, 'এই নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা বিচারের স্বার্থে আদালতের সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের ওপর যেন কোনো ভীতিকর প্রভাব না পড়ে। রোম সনদের ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর তাদের নিজস্ব তৈরি এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে।' এ ছাড়া যেসব দেশ এখনো আদালতের সদস্য হয়নি, তাদেরও আইসিসির স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় নতুন এই ঘোষণা আসল। এর আগে আইসিসির ১৮ জন বিচারকের অর্ধেক, সাবেক প্রসিকিউটর ও অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। এটিকে 'আইনের শাসনের ওপর বড় আঘাত' বলে আখ্যা দেন তুর্ক।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের চলমান সংকটগুলোর প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। যারা অপরাধের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত করছেন, তাদের শাস্তি না দিয়ে বরং বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।


