বাগেরহাটের ফকিরহাটে অভিযান চালিয়ে আইএমইআই (IMEI) পরিবর্তন করা ৫৯টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফকিরহাটের ডাকবাংলো মোড় এলাকার ‘পুষ্প টেলিকম’ নামের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে এসব ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফকিরহাট মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বাগেরহাট জেলায় সম্প্রতি মোবাইল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চুরি যাওয়া ফোন উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে চুরি যাওয়া মোবাইলের সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তাদের অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ফকিরহাটের একটি মোবাইলের দোকানে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ফকিরহাট সার্কেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফকিরহাট বাজারে রেজাউর রহমান পলাশের মালিকানাধীন ‘পুষ্প টেলিকম’ দোকানে অভিযান চালায়।
এ সময় চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের রেজাউর রহমান পলাশ (৩৪), বাগেরহাট সদর উপজেলার আতাইকাঠি গ্রামের মো. অহিদুল ইসলাম (২৬), খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ গ্রামের চন্দন সাহা (৩০) এবং বাগেরহাটের কটকা বালিয়াঘাটা এলাকার মো. হুছাইন খান (২২)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৫৯টি আইএমইআই পরিবর্তন করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি ভিভো, ৮টি টেকনো, ৮টি স্যামসাং, ৪টি ইনফিনিক্স, ৪টি শাওমি, ৪টি রিয়েলমি, ৩টি অপো, ২টি সিম্ফনি ও ২টি লং লাইফ ব্র্যান্ডের মোবাইল। এছাড়া রেডমি, এলজি, আইটেল, আসুস, মটোরোলা, এমপি, সুপার ভুক, ডলবি অ্যাটমস, সিটেক ও এসএসটি ব্র্যান্ডের একটি করে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, ‘পুষ্প টেলিকম’ দোকানে চোরাই মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তন করে সেগুলো বিক্রি করা হতো। পুলিশের ভাষ্য, আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে দেওয়ায় চুরি যাওয়া মোবাইল শনাক্ত ও উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
এ ঘটনায় ফকিরহাট মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় মো. শিমুল শেখ (২৫), মো. শফিকুল ফকির (২২) ও তৌফিকুর রহমান (৩৪) নামে আরও তিনজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, বাগেরহাট জেলায় চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ টিম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চুরি যাওয়া মোবাইলের সন্ধানে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফকিরহাটের ডাকবাংলো মোড়ের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু দোকানেই নয়, চোরাই মোবাইলের সাথে জড়িতদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও অভিযান চালানো হচ্ছে। চুরি যাওয়া মোবাইল কোথায় যাচ্ছে, কারা এগুলো সংগ্রহ করছে এবং কারা আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রি করছে-এসব বিষয়ে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ চক্রের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


