...|...|...

সারাদেশ

অবৈধভাবে চাল বিতরণের পর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বললেন ‘সামনে নির্বাচন’

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২২
Shares
অবৈধভাবে চাল বিতরণের পর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বললেন ‘সামনে নির্বাচন’

সেচ্ছাসেবক দল নেতা ইমরান হোসেন বাবু বকাউল। ছবি: টাইমস টুডে

সরকারি কর্মকর্তা কিংবা ইউপি সদস্য না হয়েও সরকারি চাল বিতরণ করছেন শরীয়তপুরের সখিপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন বাবু বকাউল। তার বিরুদ্ধে জেলে কার্ড না থাকা ব্যক্তিদের চালের স্লিপ দেওয়া এবং নির্ধারিত ২৫ কেজির পরিবর্তে পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রকৃত জেলেরা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের চাল বিতরণে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছের প্রজনন সুরক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় চরভাগা ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৭৮ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য চাল বরাদ্দ করা হয়।

রবিবার দুপুরে চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বসিয়ে রেখে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ইমরান হোসেন বাবু বকাউল নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করছেন। মাস্টাররোল অনুসরণ না করে নিবন্ধিত জেলে কার্ড না থাকা ব্যক্তিদের নিজস্ব স্লিপ দিয়ে চাল দেওয়া হচ্ছিল। স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনেক জেলে অভিযোগ করেন, ২৫ কেজির পরিবর্তে তাদের দেওয়া হচ্ছে ২৩ কেজি চাল।

অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবং ওজনে কম দেওয়ার কারণে দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চাল বিতরণ বন্ধ রাখে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে সখিপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরানের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুনরায় চাল বিতরণ শুরু হয়।

চরভাগা বাঁশতলা এলাকার জেলে সুমন মিয়া বলেন, সকাল থেকে কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু চাল পাচ্ছি না। অথচ যারা জেলে নয় এবং যাদের কার্ড নেই, তাদের নাম ডেকে ডেকে চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে বাবু বকাউল চাল না দেওয়ার হুমকি দেন।

আরেক জেলে রিয়াদ মিয়া বলেন, আমাদের ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও পেলাম ২৩ কেজি। প্রতিবার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা চাল বিতরণ করতেন, এবার বিএনপির নেতারা চাল দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ দখল করে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সখিপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন বাবু বকাউল বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ আমাকে তদারকি করার জন্য পাঠিয়েছেন। সামনে নির্বাচন, রাজনীতি করতে গেলে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অনেক কিছুই করতে হয়।

তবে কার্ড ছাড়া স্লিপে চাল বিতরণ ও প্রশাসনিক দায়িত্বে হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মল্লিক জানান, কাগজে-কলমে চাল বিতরণের দায়িত্ব আমাদের হলেও বর্তমানে আমরা পরিষদে যেতে পারছি না। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরাই চাল বিতরণ করছেন। দুপুরে কার্ড ছাড়া স্লিপে চাল দেওয়ার খবর পেয়ে ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানানো হয়।

ট্যাগ অফিসার ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়া জানান, কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের খবর পেয়ে মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশনায় কিছু সময়ের জন্য চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি নিজে উপস্থিত থেকে কার্ড যাচাই-বাছাই করে পুনরায় চাল বিতরণ শুরু করি। কার্ড ছাড়া কাউকে চাল দেওয়া হবে না।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে অনিয়মের খবর পেয়ে দ্রুত মৎস্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। বর্তমানে কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ নিশ্চিত করছেন। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।