কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ শিশুটির বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান। দুই সপ্তাহ আগে ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে তিনি কাজে যোগ দেন। তবে, এখনো তার সাথে চুক্তিপত্র হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ধস্তাধস্তির সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমকে প্রথম আঘাত করেন মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), এরপরই আঘাত করেন ফাহাদ। তারপর মো. কামরুল হাসান (১৬)।
তারা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পুলিশকে জানিয়েছেন, আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে। অপ্রতীমের বাবাও তাই মনে করছেন। তার অন্য কোনো অভিযোগ নেই।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে অপ্রতীমের বাবা ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, তার বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে। নাম ইয়েসটেক। অপ্রতীমের বাসা কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায়। ঘাতক ফাহাদও কাছাকাছি একই এলাকার বাসিন্দা।
তিনি জানান, ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোচালক। বাবা-মায়ের অনুরোধেই চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেওয়া হয় তাকে। মাস শেষে তার সাথে চুক্তিপত্র করবেন এমন ইচ্ছাও ছিল অপ্রতীমের বাবার। অপ্রতীমের সাথেও তার ভালো-খারাপ তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না।
পুলিশের ভাষ্য, ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অনিয়মিত, কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র।
এদিকে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। ফাহাদ অপ্রতীমের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতীমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারে ফাহাদ। এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
অপ্রতীমের বাবা জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে অপ্রতীম আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তার আগে জুমার নামাজ পড়ে সে বাসায় ফেরে। তিনি তাকে ভাত খাইয়ে দেন। খেয়েই বেরিয়ে পড়ে অপ্রতীম। মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে আনেন তুহিন।
এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতেও বাসায় না ফেরায় ফাহাদকে ফোন করে ডেকে এনে বিষয়টি জানান অপ্রতীমের বাবা। কোথায় গেছে, খুঁজতেই তাকে আনা হয়। সে তখন তাদের ইন্টারনেট গ্রুপে অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি লিখে দেয়। এর মধ্যে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসে অপ্রতীমের পরিবারের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মায়ের কলিগরা তা সংগ্রহ করেন।


