কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি পুলিশের।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার রাতে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতীমকে আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, আমরা পুরো ঘটনার বিস্তারিত রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরব। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এদিকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রতীমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রতীমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮ কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে।
ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রতীমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


