...|...|...

শিক্ষা

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হোম ইকোনমিক্স শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৮ | আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৬
Shares
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হোম ইকোনমিক্স শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করছেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ‘জেগেছে রে জেগেছে, হোম ইকোনমিক্স জেগেছে’, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, জবাব চাই’ এবং ‘আমার বোন আহত কেন, জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দুই দফা দাবির প্রথমটি হলো, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ। এ জন্য তার কাছ থেকে লিখিত পদত্যাগের ঘোষণা চান শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দ্বিতীয় দাবিতে, মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ, লাঠিচার্জ ও হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতেও বলেছেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে কার্যালয়ে তালা দিয়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেন তারা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর অধ্যক্ষকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এরপরও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়।

অধ্যক্ষকে উদ্ধারের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন থেকে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একজন ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া আবাসিক হলে প্রবেশ করে ছাত্রীদের মারধর ও লাঠিচার্জ এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলনের সাথে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণের প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের সহপাঠীদের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তারা।

শুক্রবার সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত চাকরির পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দিতে চান শিক্ষার্থীরা। তবে পরীক্ষার কারণে অধ্যক্ষ যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারেন, সে দাবিও জানিয়েছেন তারা।

যেভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত

পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজ প্রশাসনের বিরোধের সূত্রপাত। শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রথমে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরে ওই দুই শিক্ষার্থী ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছেন। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তারা ক্ষমা চাইলে তিনি নমনীয় হন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি।’

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’