...|...|...

ক্যাম্পাস

‘সর্বহারা’ পরিচয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:২৯ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:০২
Shares
‘সর্বহারা’ পরিচয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: টাইমস টুডে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাঁচ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষক মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও কৌশিক সরকার।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফোনদাতারা নিজেদের ‘সর্বহারা’ পরিচয় দিয়ে প্রথমে অর্থ সহায়তার কথা বলেন। পরে টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। কারও কাছে কারাগারে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলেও টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন জানান, তাকে দুই দফায় ফোন দেওয়া হয়। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় ফোনে কথা বলতে পারেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন এলে কলদাতাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। এ সময় তার কাছে কত টাকা দেওয়া সম্ভব, তা জানতে চাওয়া হয়।

অধ্যাপক শাহরিয়ার বলেন, ‘কথার একপর্যায়ে তারা বলে, আপনার মাথায় রিভলবার ধইরা বলেন নাই যে, দাদা ফোন করবে, টাকা আপনি ম্যানেজ রাখবেন।’

এ সময় কলদাতা নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই বলেও পরিচয় দেন বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক শাহরিয়ার আরও বলেন, ‘পুলিশের মাধ্যমে নাম্বার ট্র্যাক করে জানতে পারি, কলটি মাদারীপুর থেকে এসেছে। যে সিম থেকে ফোন করা হয়েছে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে একজনের নামে নিবন্ধিত।’

ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় জিডি করেন অধ্যাপক শাহরিয়ার। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি জানান তিনি।

অধ্যাপক শাহরিয়ার জানান, প্রক্টর তাকে জানিয়েছেন, এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের কাছে একই ধরনের প্রতারণামূলক ফোন এসেছে।

ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ফোন করে যখন নিজেদের সর্বহারা বলে পরিচয় দেয়, তখন আমি আর কথা না বাড়িয়ে কলটি কেটে দিই। পরে জানতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের ফোন পেয়েছেন।’

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজুন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় জিডিও করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এর সমাধান হবে।’