দোকানদার বেশি দাম নিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ভেজাল পণ্য দিয়েছেন, কিংবা টাকা নিয়েও ঠিকমতো সেবা দেননি। রাগ করে ঝগড়া করলে প্রমাণ নষ্ট হতে পারে। আগে রসিদ, প্যাকেট, ছবি ও কথোপকথন জমা করুন। তারপর দোকান বা প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত সমাধান চান। সমাধান না হলে দ্রুত ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে অভিযোগ করুন। এখানে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ—ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ করতে হয়।
আইন কী বলে?
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯: নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া, ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন এবং প্রতিশ্রুত সেবা না দেওয়া—ঘটনার ধরন অনুযায়ী ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কাজ হতে পারে।
একই আইন—ধারা ৬০: কারণ ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ না করলে সাধারণত এই আইনে অভিযোগ গ্রহণ করা হয় না। তাই শুধু দোকানের আশ্বাসে অপেক্ষা করবেন না।
জরিমানার অংশ পাওয়ার নিয়ম: আপনার অভিযোগে প্রশাসনিক জরিমানা আদায় হলে আইনের নিয়মে তার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পেতে পারেন। তবে অভিযোগ করলেই টাকা বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত—এমন নয়।
অন্য প্রতিকারের সুযোগ: গুরুতর ক্ষতি, প্রতারণা বা শারীরিক অসুস্থতা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দেওয়ানি মামলা, পুলিশি অভিযোগ বা অন্য আইনি পথও খোলা থাকতে পারে।
প্রথমেই আপনার করণীয়
প্রমাণ আলাদা করে রাখুন: রসিদ, ক্যাশ মেমো, অর্ডার আইডি, প্যাকেট, ব্যাচ ও এক্সপায়ার ডেট, বিজ্ঞাপন, ছবি এবং চ্যাটের কপি রাখুন। নষ্ট পণ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন।
লিখিত সমাধান চান: দোকান বা সেবা প্রতিষ্ঠানে ছোট করে সমস্যা লিখে replacement, refund বাংলাদেশর বা service correction চান। জমা দেওয়ার প্রমাণ রাখুন।
৩০ দিনের সময় মনে রাখুন: প্রতিষ্ঠান সময় চাইলে দিতে পারেন, কিন্তু আইনের ৩০ দিনের সীমা যেন পার না হয়। প্রয়োজনে সমাধান চলার মধ্যেই অভিযোগ করুন।
সরকারি মাধ্যমে অভিযোগ করুন: dncrp.com-এর CCMS বা অধিদফতরের নির্দেশিত মাধ্যমে ফৌজদারি অভিযোগ দিন। সাহায্যের জন্য ১৬১২১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
গুরুতর হলে আলাদা ব্যবস্থা নিন: খাবারে অসুস্থ হলে চিকিৎসার কাগজ রাখুন। প্রতারণা, হুমকি বা বড় ক্ষতি হলে আইনজীবীর পরামর্শে পুলিশ বা আদালতের সহায়তাও নিন।
যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না
৩০ দিন পার করা: “দোকান ঠিক করে দেবে” ভেবে অপেক্ষা করতে করতে অভিযোগের সময় শেষ করবেন না।
রসিদ ও প্যাকেট ফেলে দেওয়া: এগুলো ছাড়া পণ্য, বিক্রেতা, দাম ও তারিখ প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে।
২৫ শতাংশ নিশ্চিত ভাবা: জরিমানা আদায় হলে তবেই নিয়ম অনুযায়ী অংশ পাওয়ার প্রশ্ন আসে; অভিযোগ করলেই তা মেলে না।
দোকানে মারামারি বা ভাঙচুর: এতে আপনার বিরুদ্ধেই মামলা হতে পারে এবং মূল অভিযোগ দুর্বল হয়ে যাবে।
প্রতিকার ও অভিযোগের স্থান: প্রথমে বিক্রেতা বা সেবা প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত সমাধান চান। কাজ না হলে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের CCMS - dncrp.com এ অভিযোগ দিন বা ১৬১২১ নম্বরে যোগাযোগ করুন। রসিদ, ছবি, প্যাকেট ও কথোপকথনের প্রমাণ যুক্ত করুন। খাবার বা পণ্যে শারীরিক ক্ষতি হলে চিকিৎসার কাগজ রাখুন। প্রতারণা বা গুরুতর ক্ষতির ক্ষেত্রে ভোক্তা অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ, দেওয়ানি আদালত বা অন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সহায়তা লাগতে
পারে।

