...|...|...

জাতীয়

৫ হাজার টাকায় স্মার্টফোন আনছে সরকার

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০৯
Shares
৫ হাজার টাকায় স্মার্টফোন আনছে সরকার

রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল সেবা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে দেশে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে কম দামের ফিচার ফোন পাওয়া যায় প্রায় ৯৯৯ টাকায়। অন্যদিকে, স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা। এই ব্যবধান কমাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সরকারের পক্ষ থেকে দেশে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামুনুর রশীদ ভূঞা আরও জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প, ব্যবসা ও নাগরিক সেবায় কার্যকর ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল পেতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা, উন্নত ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও গবেষণা। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

তার মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ তৈরি হলেও সেটিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারকে স্বচ্ছ নীতিমালা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে হবে বেসরকারি খাতকে।

সাশ্রয়ী ডিভাইস ও ডেটা প্যাকেজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে চারটি মূলনীতির কথা তুলে ধরেন টেলিযোগাযোগ সচিব। এগুলো হলো- সবার জন্য কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা বজায় রাখা।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফাইবার অপটিক সংযোগ সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে ব্যয়, সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্মেলনে হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তার প্রতিষ্ঠান।

সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় হুয়াওয়ের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার কথা জানান তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এবং চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অংশীদারত্বে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে দেশের সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ।