...|...|...

জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৯ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৫
Shares
২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্যাস উত্তোলনে বিজিএফসিএল বর্তমানে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করছে। এছাড়া সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বিজিএফসিএল তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা- এই ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ পূরণ করে থাকে। ভবিষ্যৎ গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও এর সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। এ ছাড়া তিতাস ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের নির্দিষ্ট এলাকায় টুডি ও থ্রিডি সিসমিক জরিপও চলছে।

এদিকে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৯ জুন শেষ হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটি জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতার এই কূপটি খনন করা হয়, যা থেকে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্যাস উত্তোলনের পরিধি বাড়াতে বিজিএফসিএল তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধানকূপের খননকাজও চালিয়ে যাচ্ছে।