পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের শিরোপা-খরা ২০৩০ বিশ্বকাপে কাটতে পারে বলে আশাবাদী দেশটির ফুটবল কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক কাফু। তার বিশ্বাস, কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন করে গড়ে ওঠা ব্রাজিল দল আগামী বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মতো অবস্থানে পৌঁছাবে। দল পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়ায় সেলেসাওদের সামনে ভালো সম্ভাবনা দেখছেন সাবেক এই ডিফেন্ডার।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নেইমারের অবসর এবং আনচেলত্তির অধীনে দলের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন কাফু। ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদের কথাও জানান তিনি।
নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর প্রসঙ্গে কাফু বলেন, জাতীয় দলের হয়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই একসময় অধ্যায় শেষ হয়। তবে নেইমারের ক্যারিয়ারকে সফল হিসেবেই দেখছেন তিনি। ব্রাজিলের হয়ে নিজের প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নেইমার যে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছেন, সেটিও তুলে ধরেন সাবেক এই অধিনায়ক।
কাফুর ভাষায়, ‘জাতীয় দলের সাথে সবারই একসময় অধ্যায় শেষ হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার এই অধ্যায়টি ছিল সফল। সে নিজের ছাপ রেখে গেছে, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে ইতিহাস গড়েছে। ব্রাজিলের হয়ে তার পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। জাতীয় দলে তার সময়টা ছিল খুব সম্মানজনক।’
ব্রাজিলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০ গোল করেছেন নেইমার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫৮টি গোল। জাতীয় দলের হয়ে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়। তার বিদায়ের পর এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ঘিরেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ব্রাজিল।
ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলেছেন কাফু। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্রাজিলের বর্তমান কোচের পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখছেন তিনি। কাফুর মতে, আনচেলত্তির হাতে দলকে গুছিয়ে নেওয়া এবং নিজস্ব কৌশল বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কাফু বলেন, ‘আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে, ২০৩০ সালের চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন হবে। ব্রাজিলের সেই বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ও বাস্তব সম্ভাবনা থাকবে। এটি একটি নতুন অধ্যায়, নতুন প্রকল্প। আনচেলত্তি এখন কাজ করার এবং তার কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।’
২০২৫ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পরও ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার সাথে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে তাদের সামর্থ্য যাচাই করছেন এই ইতালিয়ান কোচ।
জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের দলেও নতুন কয়েকজন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তিনি। অভিজ্ঞদের সাথে তরুণদের সমন্বয় ঘটিয়ে শক্তিশালী দল গড়ার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কাফু।
দল পুনর্গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে ৫৬ বছর বয়সী সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘দল পুনর্গঠন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্ষেত্রে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এই তরুণদের নিয়ে ব্রাজিল দলের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে তোলা সম্ভব।’



