সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজিত এক বিশাল মানবিক সমাবেশে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ কোটি বা ১০ মিলিয়নের বেশি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের উদারতা ও দাতব্য কাজের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘আহমেদ বিন রশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ শীর্ষক এই ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।
গাজার অসহায় পরিবার ও শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্য সহায়তা প্যাকেট তৈরির এই মহতী উদ্যোগে শত শত স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
ন্যাশনাল নিউজের বরাতে জানা যায়, দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ আহমেদ বিন সাঈদ বলেন, সারাজীবন মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদ দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি উদারতা, বিনয় এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হয়ে বেঁচে ছিলেন।
এমবিআরজিআই-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আল গারগাবি বলেন, এই আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিরন্তন মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সূচনার শুরু থেকেই শেখ আহমেদ বিন রশিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তার অসামান্য অবদান ও সামাজিক প্রভাব সর্বজনস্বীকৃত।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র সরবরাহের একটি বড় উদ্যোগ শুরু করে আমিরাত। আসন্ন হাড়কাঁপানো শীত ও তাপমাত্রা হ্রাসের মুখোমুখি হওয়া ফিলিস্তিনিদের উষ্ণতা দিতে এই উদ্যোগ জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যে ‘জায়েদ চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ ৫০ হাজার জ্যাকেট, মৌসুমী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কম্বলসহ ৫ হাজার উইন্টার কিট বিমানযোগে গাজায় পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের নির্দেশনায় শুরু হওয়া ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর আওতায় গাজায় এ পর্যন্ত ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (১৪.৬ বিলিয়ন দিরহাম) সহায়তা পাঠানো হয়েছে, যা গাজায় প্রেরিত মোট বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ৪৬ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ৭৯৬টি বিমান, ২৫টি কার্গো জাহাজ এবং ১৪ হাজার ৩টি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অংশীদারিত্বে গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য ১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল এমবিআরজিআই। এই ফাউন্ডেশনটি কেবল ২০২৫ সালেই বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রায় ১৬.৫ কোটি মানুষের কল্যাণে ২.৩ বিলিয়ন দিরহামের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। পাশাপাশি গাজার স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে এবং শিশুসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ৭০ লাখ দিরহাম অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এই সংস্থাটি।


