আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার সংস্থায় রূপান্তর করা, যাতে জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নতুন এই পুলিশ সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে রাষ্ট্র ও প্রশাসন সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। একই সাথে দেশের অর্থনীতি হবে সর্বস্তরের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।’
সদ্য পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব ও জনবান্ধব’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক। পাশাপাশি সমাজকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সমস্ত সেবা একটি মাত্র ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে ঋণ-নির্ভরতা থেকে বের করে এনে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই ধারা বজায় রেখে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৫ বছরে সরকারি ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং এর মাধ্যমে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি তার সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন।


