...|...|...

খুলনা

হামলাকারীদের গ্রেফতারে আমির হামজার আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৫০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:৪৭
Shares
হামলাকারীদের গ্রেফতারে আমির হামজার আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। ছবি: টাইমস টুডে

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ গতকাল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘড়িয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমির হামজা অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গাড়িবহরে হামলা চালান। এ সময় লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তিনি নিজে এবং তার সাথে থাকা কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আমির হামজা বলেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং তার গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি ও আলেম হিসেবে জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করা তার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনীতির নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় এবং প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলার সাহস দেখায়, তারা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।

সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আমির হামজা বলেন, একজন এমপিরই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিত এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণঅধিকার পরিষদের চিহ্নিত ব্যক্তিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি করেন আমির হামজা।

তবে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হলে ভুল হবে। প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ঘটনার সময় আপনার (আমির হামজার) গাড়ির ভেতর থেকে লাঠি বের করা হয়েছিল-এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রেখে দিই। কারণ, সরকারিভাবে এখনো অস্ত্রের লাইসেন্স করা নেই। সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি। সেই হিসাবে আমার নিজের সিকিউরিটির জন্য হেফাজতে (লাঠি) রাখি। যখন আমার ওপর হামলা হয়, তখন আমার চালক লাঠি হাতে নেমে যায়। আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে যাই।’

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন সংসদ সদস্য আমির হামজা।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, হামলার ঘটনার পর শনিবার রাতেই কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে আমির হামজার সমর্থকেরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।