...|...|...

স্বাস্থ্য

হঠাৎ করেই অ্যালার্জি! জেনে নিন গোপন কারণ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪১
Shares
হঠাৎ করেই অ্যালার্জি! জেনে নিন গোপন কারণ

ছবি: সংগৃহীত

অনেকের ধারণা, অ্যালার্জি কেবল জন্মগতভাবেই শরীরের সাথে যুক্ত থাকে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ ও কোনো ধরনের অ্যালার্জিমুক্ত জীবন কাটানোর পরও যেকোনো বয়সে হুট করেই দেখা দিতে পারে নতুন কোনো অ্যালার্জি। হঠাৎ শরীরের এই পরিবর্তন ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রূপান্তরের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। আর এর পেছনে থাকতে পারে ভাইরাসের সংক্রমণ, হরমোনের পরিবর্তন, এমনকি বিশেষ এক ধরনের পরজীবী পোকার কামড়ও।

গবেষকরা বলছেন, অ্যালার্জির ক্ষেত্রে জেনেটিক প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু জিনই দায়ী নয়। কোনো একটি উদ্দীপক শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমের সুইচ অন করে দিতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে অ্যালার্জির প্রবণতা।

এর একটি উদাহরণ কোভিড-১৯। গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সাথে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা হে ফিভার এবং অ্যাজমার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। সংক্রমণের সময় শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ তৈরি হলে ইমিউন সিস্টেম অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে আরএসভি ও রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাস। অ্যান্টিবায়োটিকও অপ্রত্যাশিতভাবে ভূমিকা রাখে। এটি নষ্ট করে ফেলে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য। আর মাইক্রোবায়োমের এই পরিবর্তনে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো পদার্থকেও বিপজ্জনক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে ইমিউন সিস্টেম।

গর্ভাবস্থাতেও শরীরে হরমোন ও ইমিউন সিস্টেমে বড় পরিবর্তন হয়। আগে থেকেই অ্যালার্জি থাকা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারীর উপসর্গ গর্ভধারণের পর বেড়ে যেতে পারে। আবার আগে কখনো অ্যালার্জি না থাকলেও দেখা দিতে পারে ‘প্রেগন্যান্সি রাইনাইটিস’ বা হাঁচি, নাক বন্ধ ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ। মেনোপজের সময়ও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে দেখা দিতে পারে নতুন অ্যালার্জি।

আরও অদ্ভুত কারণ হতে পারে একটি পরজীবী পোকার কামড়। লোন স্টার টিক নামের পরজীবীর লালায় থাকা আলফা-গাল নামের এক ধরনের শর্করা অণু গরু ও ভেড়া জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাংসেও থাকে। ফলে এসব প্রাণীর মাংস খেলে পরজীবীর অণুর মতো মাংসের অণুকে ক্ষতিকর ভেবে আক্রমণ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এর ফলে হতে পারে অ্যালার্জি। শরীরে দেখা দিতে পারে লালচে চাকা, ফোলা কিংবা পেটের সমস্যা। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে এই রোগ।

 হঠাৎ তৈরি হওয়া এই অ্যালার্জি পুরোপুরি দূর করার নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা ‘ইমিউন-মডুলেটিং’ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, দই ও ফারমেন্টেড খাবারও সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা অ্যালার্জি প্রতিরোধে বিশেষ ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।