পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ৫৫ নম্বর দক্ষিণ রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম হাসনাইন হোসেন সোহেল। এ ঘটনায় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নজরুল খান এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সোহেল।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল খান দাবি করেছেন, তিনি হামলা করেননি, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর সাবুপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দেবনাথ প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে শাজাহান খান একমাত্র প্রার্থী ছিলেন। তার নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করা হলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাসনাইন হোসেন সোহেল। এ নিয়ে তার সাথে বিএনপি নেতা নজরুল খানের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে নজরুল খান ও তার সহযোগীরা সোহেলের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি আহত হন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সভাপতি নির্বাচন করার সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয়জন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সভায় পাঁচজন সদস্য ছিলেন। ফলে কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বপন কুমার দেবনাথ বলেন, সভাপতি পদে শাজাহান খান ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না। তার নাম প্রস্তাব ও সমর্থন পাওয়ায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্বপন কুমার দেবনাথ আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর থেকে দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী ছয়জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হলেও প্রধান শিক্ষক একাধিকবার নোটিশ দিয়ে সদস্যদের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য জানিয়েছেন। এরপরও অনেকে উপস্থিত হননি। তাই উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দফতরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা নজরুল খান জানান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই কারণে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অন্য কাউকে সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেয়নি। তিনি বলেন, আমি হামলা করিনি, বরং প্রতিরোধ করেছি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন সম্পর্কে থানা পুলিশকে জানানো হয়নি। এমনকি ডিএসবি সদস্যদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


