...|...|...

বিশ্ব

স্বপ্নের নারীর খোঁজে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জানলেন, তিনি এআই দিয়ে তৈরি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৩৫
Shares
স্বপ্নের নারীর খোঁজে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জানলেন, তিনি এআই দিয়ে তৈরি

ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী ব্রাজিলীয় নাগরিক এদিমার মার্তিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যাকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই নারী বাস্তবে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রি এদিমার স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে তিনি প্রথম ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান। চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেনদেইরা’ নামেও পরিচিত।

তিন লাখের বেশি অনুসারী থাকা ওই অ্যাকাউন্টে খামারে এক নারীর গ্রামীণ জীবনযাপনের ভিডিও প্রকাশ করা হতো। সেখানে পুরুষদের তার সাথে এসে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হতো। পাশাপাশি আবাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো।

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন এদিমার। তার বিশ্বাস ছিল, এই নারী তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই কাল্পনিক চরিত্র তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং নিজের খামারে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

একপর্যায়ে ওই নারীকে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী হিসেবে ধরে নিয়ে তার সাথে সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন এদিমার। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হরিজন্তে যাওয়ার খরচ জোগাতে নিজের সব মালামাল বিক্রি করে দেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান এদিমার।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ছবি দেখিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছে ওই নারী সম্পর্কে জানতে চান তিনি। কেউ তাকে চিনতে না পারায় শেষ পর্যন্ত একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যান। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই; অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। পরে তিনি জানতে পারেন, যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি।

এদিমার বলেন, ‘এই ঘটনা আমার জীবনে শুধু দুঃখ, হতাশা আর অবসাদই বয়ে এনেছে। অনেকেই একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে চায়, আমিও তাই চেয়েছিলাম।’

এদিকে অ্যাকাউন্টটির পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, ওই নারী চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি। তবে এদিমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

কাল্পনিক চরিত্রটির মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এসেছি- আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল থেকে আমি কখনো কারও সঙ্গে কথা বলিনি। বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিউ ও এনগেজমেন্ট বাড়ানোই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। আমি কখনো সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, বেলো হরিজন্তে কাউকে নিয়ে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। যা ঘটছে, তা দেখে আমি নিজেই অবাক।’

ভ্রমণে সব টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় বেলো হরিজন্তে আটকা পড়েন এদিমার। পরে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চান। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।

এত কিছুর পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি এদিমার। বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। স্থায়ীভাবে সংসার গড়ার আশায় আবারও বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি তাকে পাইনি, তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই পাব। আর আমি সেখানে আবার যাব।’

দ্য সানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ে এদিমার তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এআই দিয়ে তৈরি ওই কাল্পনিক নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায় বেলো হরিজন্তে গিয়েছিলেন।