চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের যেকোনো স্থান হুতিদের সরাসরি হামলার আওতায় চলে আসবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন সামরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা চীনা যন্ত্রাংশের সাহায্যে ইরানের তৈরি নিখুঁত নিশানার ‘খেবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব সংস্করণ বানাচ্ছে। হুতিদের নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হবে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার। ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থাকা ও জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা হুতিরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক হুমকি তৈরি করছে।
গত বছরের (২০২৫) দুটি পৃথক চালানের গোপন সরঞ্জাম ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বেসামরিক বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে বিশেষ ধাতব যন্ত্রাংশ, কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের উপাদান এবং উৎক্ষেপণকালে প্রচণ্ড তাপ নিরোধক ‘অ্যাবলেটিভ মেটেরিয়াল’ ইয়েমেনে পাচারের চেষ্টা চালানো হয়।
কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিন্টজ জানান, হুতিরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দাবি করেছে চীনা সরকার। তবে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ প্রযুক্তি ও রাসায়নিক সরঞ্জাম বিশেষভাবে সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপযোগী বলে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের তৈরি ‘খেবার শেকান’ মূলত অত্যন্ত দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। কঠিন জ্বালানিচালিত হওয়ায় উৎক্ষেপণের আগে আলাদা সময় লাগে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করায় এই নতুন তথ্য বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

