ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। একই সাথে মরুভূমির বুকে পুড়তে থাকা ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষের বিভিন্ন দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা।
হুথিদের দাবি, মারিবের আকাশে ‘শত্রুতামূলক তৎপরতা’ চালানোর সময় স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়। প্রায় চার মিনিটের দীর্ঘ ওই ভিডিওর শুরুতে যুদ্ধবিমানটিকে ট্র্যাক ও টার্গেট করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এরপর রাতের অন্ধকারের কিছু দৃশ্যে দেখা যায়, ক্র্যাশ সাইটে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটছে এবং সেখান থেকে তীব্র ধোঁয়া উড়ছে।
পরবর্তীতে দিনের আলোর দৃশ্যে রুক্ষ ও পাথুরে মাটিতে বিমানটির বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও আগুনে পোড়া বেশ কিছু অংশ। এর মধ্যে বিমানের লেজের একটি বড় অংশ খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যেটিতে সৌদি বিমানের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। এছাড়া সশস্ত্র যোদ্ধাদের ওই ক্র্যাশ সাইটে হেঁটে বেড়াতে এবং ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করতে দেখা যায়।
ভিডিওটিতে হুথি যোদ্ধাদের পিকআপ ট্রুক্ষে করে মরুভূমির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করার দৃশ্যও রয়েছে। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, যোদ্ধারা তাদের দিকে এগিয়ে আসা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন।
সংবাদ সংস্থা সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওর অডিওর শুরুতে আল্লাহর প্রতি বারবার প্রার্থনা করা হয়। এরপর বক্তা বিমানটিকে সৌদি প্লেন হিসেবে শনাক্ত করে দাবি করেন যে, ইয়েমেনি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মারিবের আকাশে সেটিকে ভূপাতিত করেছে। বক্তা বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ও সহায়তায় এই ঘটনা ঘটেছে এবং ইয়েমেনে হামলাকারীদের জন্য এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি সতর্কবার্তা। রেকর্ডিংটিতে বারবার আল্লাহু আকবার ধ্বনি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়া ‘ইসলামের জয়’ এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে নির্দেশিত আরেকটি স্লোগানও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এরপর সৌদি আরবকে উদ্দেশ্য করে বক্তা বলেন, দেশটির সামরিক সরঞ্জামগুলো বিভিন্ন বিদেশি দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তিনি ওই অস্ত্রগুলোকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদিত পণ্য হিসেবে বর্ণনা করেন। ভয়েসওভারে সাম্প্রতিক এই ফুটেজের সাথে সামরিক যান সংক্রান্ত হুথিদের পূর্ববর্তী দাবিগুলোর তুলনা করা হয়। এতে বলা হয়, এর আগে হুথি যোদ্ধাদের মার্কিন ও ইসরায়েলি ট্যাংকের অবশিষ্টাংশের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল এবং এখন তাদের আধুনিক ও উন্নত যুদ্ধবিমানের পাশে দেখা যাচ্ছে।
এর আগে, হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আলাদাভাবে দাবি করেন যে, মারিবের ওপরে হুথিদের সংজ্ঞায়িত ‘শত্রুতামূলক তৎপরতা’ চালানোর সময় সৌদি এফ-১৫ বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে বিমানটিতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সারি।
সৌদির মক্কা অভিমুখে ড্রোন আটকের দাবি এদিকে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা মক্কার নিকটবর্তী এলাকায় নিক্ষিপ্ত একটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, পবিত্র এই নগরীর নিষিদ্ধ বা আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটিকে শহরের দক্ষিণ দিকে ধ্বংস করে দেয়।
আল-মালিকি এই কথিত ড্রোন হামলাকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষা হলো একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা। এছাড়া তিনি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কাকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার সাথেও বর্তমান ঘটনার যোগসূত্র টানেন।
অন্যদিকে, সৌদির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে হুথিরা জানিয়েছে যে তারা মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট ও মিথ্যা’।


