...|...|...

অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৯ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩৩
Shares
রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক-সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ বিষয়ে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা চিঠিগুলোতে তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সম্মতির কথা জানানো হয়েছে।

চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আওতায় রয়েছেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী তাদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সরকারের সুপারিশ ও সম্মতির আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে পর্ষদের পরবর্তী পদক্ষেপ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আইন ও চুক্তির বিধান অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থাৎ, সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানানোর পাশাপাশি নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের ওপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

তবে তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের কার্যকর তারিখ, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা কিংবা তাদের দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে চিঠিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন এবং সরকারি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় এসব ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সামনে খেলাপি ঋণ আদায়, ঋণের গুণগত মান উন্নয়ন, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার মতো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এমন প্রেক্ষাপটে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে কী জানা গেছে

তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানানো হলেও তাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে চিঠিতে কোনো নির্দেশনা নেই।

এ কারণে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, কারা দায়িত্ব পেতে পারেন কিংবা অন্তর্বর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে- এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বিদ্যমান এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের নির্দিষ্ট কারণও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে মূলত ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সরকারের সুপারিশ ও সম্মতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ আইন ও চুক্তির বিধান অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে সম্পন্ন করে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।