নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্বে সামাজিক আন্দোলন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করায় রাজু আহমেদ (৩৮) নামের এক যুবককে তার বাড়িতে প্রবেশ করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতার শাহাদাতের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। পেশায় তিনি মুরগীর খামারী ব্যবসায়ী। তিনি জনকল্যাণকর সামাজিক সংগঠনে সক্রিয় এবং এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত ১১টার দিকে রাজুর বাড়িতে প্রবেশ করে স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবী রাজুর সাথে তর্কে জড়ায়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা মাদক ব্যবসায়ী শাহাদাত গ্রুপের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে শুরু করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা ও ছোট বোনের অভিযোগ, রাজু মাদকবিরোধী সংগঠনে জড়িত থাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা শাহাদাতের সাথে তার পূর্ব বিরোধ ছিল। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পিটুনির চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


