মার্কিন পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ ‘ওয়ান্ডার মাইন্ড’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন বিনিয়োগকারী এই মামলা করেন, যাদের দাবি-স্টার্টআপের সম্ভাবনা এবং এতে পপতারকার সরাসরি সম্পৃক্ততা তাদের বিভ্রান্ত করেছিল।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার নথিতে উঠে এসেছে যে ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়ান্ডার মাইন্ডে সেলেনা গোমেজকে সহ-প্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
মানসিক স্বাস্থ্যকে দৈনন্দিন জীবনে সহজভাবে গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরিই ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য, যেখানে গ্রাহকদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করারও আহ্বান জানানো হয়।
পাঁচজন বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, সেলেনার তারকাখ্যাতি ও বিপুল সামাজিক মাধ্যম অনুসারীর কথা বিবেচনা করে তারা ২০১২ সালে প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়লেও এই তথ্য কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা কর্মকর্তা তাদের জানাননি বলে অভিযোগ।
এ কারণে সেলেনার মা ও প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রধান নির্বাহী ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকেও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনি প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিনিয়োগকারীরা মূল অর্থ ফেরতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি ব্যয়ও দাবি করেছেন।
নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ৯৫ মিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়। সে সময় জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব, বিজ্ঞাপনী চুক্তি এবং একটি নতুন অ্যাপ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে এসবের কিছুই কার্যকর হয়নি।
গত বছর ‘দ্য কাট’-এর একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানতে পারেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেলেনা গোমেজ, টিফি ও পিয়ারসন একত্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পিয়ারসন নিউইয়র্কে নিজের বাসাভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডলার বিনিয়োগকারীদের তহবিল থেকে ব্যবহার করেছিলেন বলে সেলেনার মা বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান পিয়ারসন।


